গাজীপুরে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হয়েছেন সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত তুহিন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে। হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার নেপথ্যের কারণ জানিয়েছে পুলিশ। হত্যার পর প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চাঁদাবাজি নয়, বাদশা নামের এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় খুন হয়েছেন তুহিন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ উত্তর) মো. রবিউল ইসলাম এ তথ্য জানান।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা সাংবাদিক তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে যাই। সেখানে গিয়ে তুহিনকে মৃত দেখতে পাই। আমাদের তদন্তের প্রয়োজনে আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করি। সিসিটিভি ফুটেজে আমরা দেখতে পাই, একজন নারী রাস্তায় একজন পুরুষের সঙ্গে কোনো একটা বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে যান। সে সময় একজন পুরুষ, একজন নারীকে আঘাত করেন। আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে ওই নারীর পূর্ব পরিচিত ৪-৫ জন চাপতিসহ এসে ওই পুরুষকে আঘাত করেন। একপর্যায়ে ওই পুরুষকে আর সিসি ক্যামেরায় পাওয়া যায়নি। পরে আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ওই পুরুষ জয়দেবপুর সদর হাসপাতালে আছেন। তার নাম বাদশা মিয়া।
মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা তার মাধ্যমে এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি, ওই ঘটনাটি সাংবাদিক তুহিন তার মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে এই ঘাতকরা তুহিনকে চার্জ করেন। তিনি এই ভিডিও কেন করেছে তা জানতে চান এবং এটা ডিলিট করার জন্য বলেন। এরপর তুহিন যখন ডিলিট করতে রাজি হননি, কিংবা ভিডিওর বিষয়টি অস্বীকার করেন, তখন ওই অবস্থাতেই তার আরপর হামলা চালানো হয় এবং মেরে ফেলে।
জানা গেছে, গাজীপুর শহরের চৌরাস্তা এলাকায় থাকতেন তুহিন। পাঁচ-ছয়জন দুর্বৃত্ত সেদিন রাতে তাকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে। তুহিন প্রাণ রক্ষার জন্য দৌড়ে গিয়ে আশ্রয় নেন ঈদগাঁ মার্কেটের একটি চায়ের দোকানে। কিন্তু দুর্বৃত্তরা সেখানেই ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
চায়ের দোকানের মালিক খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দোকানে বসেছিলাম। হঠাৎ তুহিন দৌড়ে এসে আমার দোকানে ঢুকে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তিনজন দুর্বৃত্ত আমার দোকানের ভেতরে ঢুকে তাকে কুপিয়ে মেরে ফেলে। বাইরে আরও দুজন রামদা হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও কুপিয়ে মারার হুমকি দেয়। আশপাশে অনেক মানুষ থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।’
https://youtu.be/HbE4s6SZy14নিহতের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের কিছু সময় আগেও তিনি স্থানীয় সমস্যা নিয়ে পোস্ট করেছিলেন। রাত আটটার দিকে চৌরাস্তা এলাকায় রাস্তায় এলোমেলোভাবে পথচারীদের পারাপারের একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি লিখেছিলেন, ‘যেমন খুশি তেমন রাস্তা পার হওয়ার দৃশ্য, গাজীপুর চৌরাস্তা।’ তার দুই ঘণ্টা আগে জয়দেবপুর রেলগেট এলাকায় ড্রেন সংস্কারের অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি ছবি দিয়েছিলেন।
বাসন থানার ওসি শাহিন খান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। নিহত সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

সময়ের কণ্ঠস্বর অনলাইন ডেস্ক : 










